৫০ হাজার টাকায় নেমে আসবে সোনার দাম, জানালেন মোদী সরকার – Gold Price Fall Down

টাকা পয়সা

বং নিউজ, ওয়েবডেস্ক: সোনা—শুধু ধাতু নয়, ভারতীয় সংস্কৃতিতে যা আস্থার প্রতিশব্দ। গত কয়েকমাসে সোনার দাম (Gold Price) যে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, তাতে সকলের কপালে ভাঁজ পড়েছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে গহনা বা ভবিষ্যতের জন্য সোনা জমিয়ে রাখতে চাইছিলেন, তারা এখন সোনার রেট (Gold Rate) কমার অপেক্ষায়। অন্যদিকে, একদল বিনিয়োগকারী মনে করছেন, এই ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকবে এবং শীঘ্রই সোনার মূল্য দেড় লাখ টাকাও ছুঁতে পারে।

কিন্তু এই উত্তেজনার মাঝে আন্তর্জাতিক বাজার বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন এক কঠিন সতর্কবার্তা: এই মূল্যবৃদ্ধি একটি ‘বুদবুদ’ বা বাবল (Bubble) মাত্র, যা যেকোনো মুহূর্তে ফেটে যেতে পারে, যার ফলে সোনার দাম ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে! যারা নিছক বিনিয়োগের জন্য সোনা কিনছেন, তাদের জন্য এই সতর্কবার্তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বুদবুদ কি শেষ? কেন এই ভয়ংকর পতনের আশঙ্কা?

সোনার দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কেন টেকসই নয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ-বাজারের বিশ্লেষকরা এখন সরব। সাধারণত, অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়লে বা ডলার দুর্বল হলে সোনা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে চাঙ্গা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্থানটিকে তারা দেখছেন ঐতিহাসিক অসঙ্গতি হিসেবে।

বাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন PACE 360-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম বিশিষ্ট বিশ্লেষক অমিত গোয়েল। তিনি বলছেন, গত ৪০ বছরের ইতিহাসে মাত্র দু’বার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যখন ডলারের দুর্বলতা সত্ত্বেও সোনা ও রুপোর দাম অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে। আর প্রতিবারই এমন চরম শিখরে পৌঁছানোর পর দ্রুত এবং গভীর পতন ঘটেছে।

“সোনার মূল্যে এই আকস্মিক উত্থান আসলে একটি রিফ্লেশনারি বুদবুদ। যখন এটি চরমে পৌঁছায়, তখন ফেটে পড়ে। এখন গোল্ড রেট প্রতি আউন্সে ৪,০০০ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, যা অনভিপ্রেত এবং পতনের স্পষ্ট সংকেত। বিনিয়োগকারীরা এখনই সতর্ক না হলে বড় ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারেন,” জানান অমিত গোয়েল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপোর দামের ৫০ ডলারে পৌঁছে যাওয়াও একই সতর্কতার ইঙ্গিত। রুপোর দামের ক্ষেত্রে তো এই পতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এই উত্থান কেবল একটি অস্থায়ী ঝড়, যা শীঘ্রই শান্ত হবে এবং দামের সংশোধন (Correction) শুরু হবে।

দেড় লাখ নাকি ৩০% পতন: বাজারের দ্বিধাবিভক্তি

যদিও একদল বিশেষজ্ঞ বলছেন সোনার দামের পতন অনিবার্য, ঠিক তখনই বাজারের অন্য একটি অংশ মনে করছে সোনার এই উত্থান দীর্ঘমেয়াদী। তাদের যুক্তিগুলি হল:

  1. বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা: চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে। এই চাহিদা বৃদ্ধি সোনার দামকে ধরে রাখবে।
  2. মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা: অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়বে, তাই টাকা সঞ্চয় না করে সোনা কিনে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
  3. দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: এই দলের বিশ্লেষকরা মনে করেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সোনার দাম অনায়াসে দেড় লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

তবে, যারা পতনের সতর্কতা দিচ্ছেন, তাদের মূল বক্তব্য হলো—এই উত্থানটি বিনিয়োগকারীর মানসিকতা দ্বারা চালিত। অর্থাৎ, ‘পিছিয়ে পড়ার ভয়’ (FOMO – Fear of Missing Out) থেকে মানুষ উচ্চ দামেও সোনা কিনছে, যা বাজারকে অস্বাভাবিকভাবে স্ফীত করে তুলেছে। যেকোনো বাবল বা বুদবুদ একসময় ফাটবেই।

আরও পড়ুনঃ আগামী মাসেই ঢুকবে পিএম কিষানের টাকা, জানালেন প্রধানমন্ত্রী – PM Kisan Samman Nidhi Yojana

ভারতীয় মধ্যবিত্তের করণীয়: সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত

ভারতীয় পরিবারে সোনা শুধুমাত্র বিনিয়োগ নয়, এটি একটি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন। বিবাহ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য সোনা কেনা এখানে অপরিহার্য। এই দ্বিধা বিভক্ত বাজারে সাধারণ মানুষ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন?

ক্রেতার উদ্দেশ্য বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় আর্থিক কৌশল
বিয়ে বা অনুষ্ঠান যেহেতু প্রয়োজনটি আবশ্যিক, তাই বাজারের সম্পূর্ণ পতনের জন্য অপেক্ষা না করাই ভালো। অল্প অল্প করে কিনুন (Averaging)। একবারে বেশি পরিমাণে না কিনে, ধাপে ধাপে অল্প গহনা কিনে রাখুন। এতে দাম কিছুটা কমলে আপনার গড় ক্রয়মূল্য (Average Cost) কম থাকবে।
কেবল বিনিয়োগ অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি থাকায় এখনই সমস্ত পুঁজি বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকুন। ধৈর্য ধরুন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন পতন নিশ্চিত। তাই দামের বড় সংশোধনের জন্য অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় দীর্ঘমেয়াদে হয়তো সোনা লাভ দেবে, কিন্তু স্বল্পমেয়াদে বড় ক্ষতি হতে পারে। বাজারের অস্থিরতা কাটুক। যদি বিনিয়োগ করতেই হয়, তাহলে সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP)-এর মতো ছোট ছোট কিস্তিতে সোনা কেনা যেতে পারে।

সতর্কতাই সাফল্যের চাবিকাঠি

সোনার বাজার এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। একদল দেখছেন প্রবৃদ্ধির চূড়া, আরেকদল দেখছেন আসন্ন পতন। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় কাজ হলো ধৈর্য ধরা এবং ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। মনে রাখবেন, উচ্চ দামের ঝুঁকি এড়িয়ে চললে আপনার আর্থিক পোর্টফোলিও সুরক্ষিত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ ফোন থেকে ছবি বেঁচে দিনে ১০০০ টাকা আয়- শুধু স্মার্টফোন থাকলেই কেল্লাফতে – Stock Photography

যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক পরিস্থিতি এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করুন। এই অস্থির বাজারে আপনার একটি সঠিক সিদ্ধান্তই আগামী বছরের আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে। আপনার আর্থিক যাত্রা সফল হোক।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Bong Newz

Founder of Bong Newz. 4 years experienced in this field. Thank you

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *