প্রত্যেক মেয়েকে ২৫,০০০ টাকা দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, আবেদন করুন – Rupashree Scheme West Bengal
বং নিউজ, ওয়েবডেস্ক: রাজ্য সরকার থেকে শুরু করে কেন্দ্র সরকার, সাধারণ মানুষের জন্য একের পর এক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করে রেখেছে। আর ঠিক তেমনই পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ পরিবারের সুবিধার্থে মমতা সরকার চালু করেছে দারুণ এক প্রকল্প (West Bengal Scheme)। মূলত মেয়ের বিয়ের খরচ সামলাতে হিমশিম খাউয় সাধারণ থেকে শুরু করে দরিদ্র বা নিম্নবিত্ত পরিবারেরা। আর সরকার যদি এই অবস্থায় পাশে এসে দাঁড়ায়, তাহলে কেমন হবে? আজকের প্রতিবেদনে সেরকমই একটি প্রকল্প সম্বন্ধে আলোচনা করলাম।
| প্রকল্পের নাম | রূপশ্রী প্রকল্প |
| প্রদানকারী সংস্থা | পশ্চিমবঙ্গ সরকার |
| সহায়তার পরিমাণ | ২৫,০০০ টাকা |
| কারা যোগ্য় | যেকোনও মেয়ে |
| যোগ্যতা কী দরকার | ১৮ বছর বয়স, বিবাহের যোগ্য |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | https://wcdsw.wb.gov.in/ |
কোন প্রকল্পের কথা বলছি আমরা?
আসলে আমরা বলছি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চালু করা রূপশ্রী প্রকল্পের কথা। এই প্রকল্পটি মূলত রাজ্য সরকারের একটি সমাজ কল্যাণমূলক উদ্যোগ। এর লক্ষ্য হল- বিয়ের সময় মেয়েদেরকে এককালীন অর্থ সহায়তা প্রদান করা। জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের আওতায় মেয়ের বিয়ের সময় অ্যাকাউন্টে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
কবে চালু করা হয়েছে এই প্রকল্প?
জানিয়ে রাখি, রুপশ্রী প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আয়তায় নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গত ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল চালু করা হয়েছিল। আর এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল দরিদ্র পরিবারগুলির মেয়েদের বিয়ের খরচের সাহায্য করা। আর এই প্রকল্পের আওতায় প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের সময় অর্থনৈতিক সাহায্য করা হয়। ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয় এই প্রকল্পে।
কারা আবেদন করতে পারবে?
এক্ষেত্রে বলে রাখার বিষয়, এই প্রকল্পটি সবার জন্য নয়। কিন্তু বেশিরভাগ দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা সাহায্য পেয়ে থাকে। এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য যে শর্তগুলি মানতে হয়, সেগুলি হল—
- আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
- পাত্রের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে।
- প্রথমবার বিয়ে করছে যে মেয়ে, একমাত্র সেই এই সুবিধা পাবে। অর্থাৎ, অবিবাহিত মেয়েদের জন্য এই প্রকল্প।
- পরিবারের বার্ষিক আয় ১.৫ লক্ষ টাকার নিচে হতে হবে।
- বিগত পাঁচ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- মেয়ের নিজের নামে অবশ্যই একটি সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
এই প্রকল্পে অফলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। অনলাইনে আবেদন করার কোনও পোর্টাল এখনও পর্যন্ত চালু করা হয়নি। আবেদন করার জন্য নিন্মলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করুন—
- প্রথমে আপনার এলাকার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস থেকে একটি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করুন।
- তবে যদি আপনি শহরে থাকেন, তাহলে সাব ডিভিশনাল অফিস বা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের থেকে এই ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে।
- তবে এখন অনলাইনের মাধ্যমেই ফর্ম ডাউনলোড করা যাচ্ছে। এর জন্য আপনাকে https://wcdsw.wb.gov.in/ ওয়েবসাইটে গিয়ে ফর্ম ডাউনলোড করে নিতে হবে।
কী কী ডকুমেন্ট দরকার হবে?
এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য যে ডকুমেন্টগুলি প্রয়োজন, সেগুলি হল—
- জন্মের প্রমাণপত্র হিসেবে জন্ম সার্টিফিকেট, আধার কার্ড কিংবা ভোটার আইডি কার্ড।
- অবিবাহিত থাকার ঘোষণাপত্র।
- পাত্রের বয়সের প্রমাণপত্রের ডকুমেন্ট হিসেবে আধার কার্ড কিংবা ভোটার আইডি কার্ড।
- বিয়ের তারিখে অনুষ্ঠান সংক্রান্ত সমস্ত প্রমাণপত্র। নিমন্ত্রণপত্র দিলেও হবে।
- পরিবারের বার্ষিক আয়ের সার্টিফিকেট।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রথম পাতায় জেরক্স কপি।
- পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র।
- পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। তবে এক্ষেত্রে বলে রাখি, পাত্র এবং পাত্রী উভয়ের ছবি দরকার হবে।
আরও পড়ুনঃ রেশনের সাথে ১০০০ টাকা দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কারা পাবেন? – 1000 Rupees With Ration
আবেদনের সময় মনে রাখুন এই বিষয়
জানিয়ে রাখি, এখানে আবেদন করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্দিষ্ট সময় সীমা বেঁধে দিয়েছে। মোটামুটি বিয়ের সম্ভাব্য তারিখের ৩০ থেকে ৬০ দিনের আগেই আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সমস্ত ডকুমেন্ট জমা দিতে হয় স্থানীয় ব্লক প্রশাসনের কাছে। দেরি করলে আবেদন গ্রহণ নাও হতে পারে। তাই বিয়ের পরিকল্পনা শুরুর থেকেই এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে এবং এই প্রকল্পে আবেদন করতে হবে।
উপকৃত হয়েছে হাজার হাজার পরিবার
সরকারের দেওয়া একটি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ কন্যা সন্তান রূপশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ সাহায্য পেয়ে থাকে। আর বিশেষ করে গ্রামীণ বা অধিবাসী সম্প্রদায়ের মেয়েরা এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পায়। এই সহায়তা অনেক সময় মেয়েদের জীবন বদলে দেওয়ার চাবিকাঠি হিসেবেও দাঁড়ায়। ছোট সহায়তা হলেও, ভবিষ্যতে বড় দিশা দেখাতে পারে এই প্রকল্প।
তাই এখন যত বেশি পরিবার এই প্রকল্পের ব্যাপারে জানবে, ততই মেয়েদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ একজন কন্যার ভবিষ্যতের সঙ্গে একটি গোটা পরিবার, এমনকি সমাজ ও প্রজন্ম জড়িয়ে থাকে। তাই ভবিষ্যতে মেয়েদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য এই প্রকল্প চালু করা।
মাথায় রাখুন এই বিষয়
প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা শুধুমাত্র আবেদনকারীর নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই ব্যাঙ্কেই স্থানান্তর করা হয়। অনুমোদিত অনুদান ইন্টিগ্রেটেড ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় অ্যাকাউন্ট দেওয়া হয়। আর প্রস্তাবিত বিবাহের তারিখের কমপক্ষে পাঁচ দিন আগে টাকা দিয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ বাড়ি বই না পড়লেও পরীক্ষায় আসবে 100% নম্বর, মানুন এই ছোট্ট টিপস – How to Score Highest Marks in Exam
Frequently Asked Questions (FAQ)
১) এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কী?
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মেয়েদেরকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা।
২) এই স্কিম কি দ্বিতীয় বিবাহের জন্য প্রযোজ্য?
না, এই স্কিমের জন্য একমাত্র প্রথম অবিবাহিত মহিলারাই আবেদন করতে পারবে।
৩) পারিবারিক আয় কত হতে হবে?
এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য আপনার পারিবারিক আয় বার্ষিক ১.৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে চলবে না।
৪) বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে কোন কোন ডকুমেন্ট দিতে পারবেন?
এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে জন্মশংসাপত্র, ভোটার আইডি কার্ড, প্যান কার্ড, মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট, আধার কার্ড কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয় সার্টিফিকেট দিতে পারবেন।
৫) আবেদনপত্র কোথা থেকে পাবেন?
এই প্রকল্পে আবেদনপত্র গ্রামীণ এলাকায় ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারের অফিস, পৌর এলাকায় মহাকুমা অফিসারের অফিস এবং কর্পোরেশন এলাকায় কমিশনের অফিস থেকে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।