মাত্র ১ টাকাতেই জমি দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ঝটপট আবেদন করুন – WB Government Scheme
বং নিউজ, ওয়েবডেস্ক: রাজ্য সরকার থেকে শুরু করে কেন্দ্র সরকার, সাধারণ মানুষের জন্য একের পর এক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করে রেখেছে তারা। এমনকি বিভিন্ন রকম সুবিধা দেওয়া হয় কেন্দ্র ও রাজ্যের তরফ থেকে। তবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal) এমন একটি খবর সামনে এনেছে, যা শুনলে আপনি অবাক হবেন। জানা যাচ্ছে, মাত্র ১ টাকাতেই জমি দিচ্ছে মমতা ব্যানার্জির (Mamata Banerjee) সরকার। শুনতে অবাক লাগলেও এক্কেবারে সত্যি।
তবে আপনি কীভাবে পাবেন এই জমি, কীভাবে আবেদন করবেন, কী কী যোগ্যতা পূরণ করতে হবে, সবকিছু যদি জানতে চান তাহলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। কারণ এই প্রতিবেদনে আমরা এই প্রকল্প সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য তুলে ধরলাম।
| কী প্রকল্প | ১ টাকায় শপিং মল বানানোর জমি |
| প্রদানকারী সংস্থা | পশ্চিমবঙ্গ সরকার |
| কে ঘোষণা করলেন | মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি |
| কী সুবিধা মিলবে | শপিং মল বানিয়ে ব্যবসার অগ্রগতি, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ব্যবসার সুযোগ |
| কারা যোগ্য | বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ী |
| আবেদন পদ্ধতি | MSME দপ্তর / জেলা প্রশাসন |
বড়সড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আলিপুরে নব নির্মিত চর্ম এবং কুটির শিল্প কেন্দ্রের শিল্পান্ন উদ্বোধনের মঞ্চে গিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানে গিয়েই তিনি বড়সড় ঘোষণা করেন। তিনি বলেছেন, যারা শপিং মল তৈরি করতে চান, তাদের জন্য একটা শর্ত মানতে হবে। দুটি ফ্লোর আমার চাই। আর সেই ফ্লোরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েদের জন্য দোকান থাকবে। আর বাকি জায়গায় সিনেমা হল, কফি শপ কিংবা রেস্টুরেন্ট বা শপিং এরিয়া, যা খুশি করতে পারেন। অর্থাৎ উদ্যোক্তারা ইচ্ছামতোই শপিংমল বানাতে পারবে। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে দুটি ফ্লোর রাজ্য সরকারকে দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ মাধ্যমিক পাস করলেই হবে, ২০ লক্ষ টাকা স্কলারশিপ দিচ্ছে SBI – State Bank Scholarship
কেন নেওয়া হল এই উদ্যোগ?
দেখুন, কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকার একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প (WB Government Scheme) চালু করেছে। তবে এই প্রকল্প একটু আলাদা। তার কারণ—
- প্রথমত, এই প্রকল্পের আওতায় জমির দাম নিয়ে কোনও চিন্তা করতে হবে না। কারণ মাত্র ১ টাকাতেই জমি পাওয়া যাচ্ছে, যা কল্পনাও করা যায় না। আসলে কোনও ব্যবসা শুরু করার জন্য জমির দাম সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, যা এখানে থাকছে না।
- দ্বিতীয়ত, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এবার থেকে আর হাট এবং মেলায় বিক্রির উপর নির্ভরশীল থাকবে না, বরং শপিং মলের মাধ্যমেই তারা দোকান পেয়ে যাবে।
- তৃতীয়ত, বাংলার হস্তশিল্প, তাঁতের শাড়ি কিংবা লোকাল প্রোডাক্ট, খাদ্যপণ্য, চামড়ার সামগ্রী সরাসরি এবার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে যাবে।
- এছাড়া একই ছাদের নীচে দোকান, সিনেমা হল, কফি শপ, রেস্টুরেন্টজ ছোটখাটো দোকান, সবকিছু একসঙ্গে থাকবে। ফলে ব্যবসার হার যে বাড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কারা এই জমির জন্য আবেদন করতে পারবে?
প্রসঙ্গত, এই জমি কারা পাবে, এখনও তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। তবে অনুমান করা হচ্ছে—
- বেসরকারি ডেভলপার সংস্থাগুলিকে একমাত্র এই জমি দেওয়া হবে। তারা একমাত্র এখানে আবেদন করতে পারবে।
- পাশাপাশি বিল্ডার বা উদ্যোক্তরাও নিজের সাধ্যমত বা পুঁজিতে এখানে আবেদন করে শপিংমল নির্মাণ করতে পারবে।
তবে এক্ষেত্রে আবারও জানিয়ে রাখি, সরকার শর্ত করে দিয়েছে দুটি ফ্লোর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য ফাঁকা রাখতে হবে। অর্থাৎ, আপনি তিনতলা, চারতলা বা পাঁচতলা, যাই বানান না কেন, আপনাকে দুটি ফ্লোর ছেড়ে দিতে হবে।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা কীভাবে উপকার পাবেন?
দেখুন, এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি জেলায় গড়ে ওঠা মলে দুটি করে ফ্লোর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য থাকবে। আর এখানেই তো বাজিমাত। সেখানে তারা ইচ্ছামত হস্তশিল্পের দোকান, খাদ্যপণ্যের স্টল, তাঁতের শাড়ি বা যাবতীয় বিভিন্ন সামগ্রী, গ্রামীণ পণ্যের স্টল যা খুশি তৈরি করতে পারবে। আর এতে একদিকে যেমন তাদের আয় বাড়বে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের নারী উদ্যোক্তারাও আরও সফলতা পাবে। অর্থাৎ মহিলাদের আত্মনির্ভর করার জন্য এই প্রকল্পের জুরিমেলা ভার।
কুটির শিল্প মডেল | Shilpanna Scheme |
প্রসঙ্গত, ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও ঘোষণা করেন যে, তিনি শিল্পন্ন নামের একটি বিশেষ কমপ্লেক্স উদ্বোধন করবেন। আর সেখানে ৪৬টি দোকান থাকবে। পাশাপাশি চামড়াজাত পন্য ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়িগুলিও সেখানে পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুনঃ বাড়ি কন্যা সন্তান থাকলেই মিলছে ১০ লক্ষ টাকা, এখনই আবেদন করুন – Sukanya Samriddhi Yojana
আবেদন কীভাবে করবেন?
যদিও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এখনও এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য কোনও অফিশিয়াল পোর্টাল চালু করা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে হয়তো MSME বিভাগ বা স্থায়ী জেলা প্রশাসন বা ব্লক প্রশাসনে গিয়ে অফলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।।
তবে জানিয়ে রাখি, এই জমির বরাদ্দ হবে আবেদনকারীর ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ভিত্তির ওপর। পাশাপাশি নির্ধারিত নির্মাণ সময়সীমা অনুযায়ী এবং সরকারের শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতির উপরই। মোদ্দা কথা, আপনি যদি দুটি ফ্লোর সরকারকে ছেড়ে দিতে পারেন, তাহলেই এখানে আবেদন করতে পারবেন।
রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জ
তবে প্রকল্প যতই বড় হোক না কেন, এই প্রকল্পে থেকে যাচ্ছে কিছু চ্যালেঞ্জ। সেগুলি হল—
- প্রথমত, জমি সংক্রান্ত কিছু আইনি জটিলতা দেখা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের আওতায় তার সমাধান করা যেতে পারে।
- দ্বিতীয়ত, শপিংমল নির্মাণ করা মানে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। তবে রাজ্যের তরফ থেকে নির্দিষ্ট সময় সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাই যদি বিলম্ব হয়, তাহলে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
- তৃতীয়ত, সরকারি ফ্লোর রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। তাদের জন্য মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
- চতুর্থত, প্রাইভেট ডেভেলপারদের কিছু সমস্যা থাকতে পারে। তাই তাদের জন্য ইনসেনটিভ ঘোষণা করে আরও উৎসাহ দিতে হবে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছে, যদি এই পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের মন মতো বাস্তবায়িত হয়, তাহলে প্রতিটি জেলায় এবার আধুনিক শপিংমল গড়ে উঠবে। পাশাপাশি মহিলা উদ্যোক্তাদের সামাজিক মর্যাদা বাড়বে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে স্থানীয় হস্তশিল্প এবং শিল্প পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি হবে এবং রাজ্যে ব্যবসা বান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি হবে।
আরও পড়ুনঃ লেখালেখি করেই মাসে ১ লক্ষ আয়, বাড়িতে বসেই হবে এভাবে ইনকাম – Content Writing Job By Google Adsense
তাই মাত্র ১ টাকায় রাজ্য সরকার যে জমি দিচ্ছে, সেই সুযোগ মিস করবেন না। আপনার যদি পুঁজি থাকে এবং আপনি স্বনির্ভর হতে চান, তাহলে আজই আবেদন করুন রাজ্য সরকারের এই স্কিমে এবং মাত্র ১ টাকায় লুফে নিন জমি। কারণ এই সুযোগ সচরাচর আর নাও আসতে পারে। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে, অন্যদিকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও প্রচুর পরিমাণে উপকৃত হবে। এখন দেখার রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প ঠিক কতটা বাস্তবায়িত হয়।