বাড়ি কন্যা সন্তান থাকলেই মিলছে ১০ লক্ষ টাকা, এখনই আবেদন করুন – Sukanya Samriddhi Yojana
বং নিউজ, ওয়েবডেস্ক: মহিলাদেরকে স্বনির্ভর করার জন্য রাজ্য সরকার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করে রেখেছে। হ্যাঁ, মহিলা বা কন্যা সন্তানদের উন্নতির জন্য সবসময় সরকার ভেবে থাকে। যেমন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে কন্যাশ্রী প্রকল্প, লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প, রূপশ্রী প্রকল্প সহ একাধিক প্রকল্প চালু করা রয়েছে। ঠিক তেমনই কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকেও রয়েছে একাধিক প্রকল্প। আর সেরকম একটি প্রকল্প হল সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা (SSY Scheme)। জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
আপনার বাড়িতে যদি কোনও কন্যা সন্তান থাকে, তাহলে আপনিও পেতে পারেন এই আর্থিক সহায়তা। এমনকি এই টাকা দিয়ে আপনি তার ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে পারবেন। তবে এই প্রকল্পের টাকা পেতে গেলে অবশ্যই সামান্য কিছু টাকা জমা করতে হয়, যাতে ভবিষ্যতে মেয়ের উচ্চশিক্ষা কিংবা বিবাহের সময় কোনওরকম অসুবিধা না হয়। তাই যারা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করছেন, তারা সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন আজকের এই প্রতিবেদনে।
| স্কিমের নাম | সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা |
| পরিচালক সংস্থা | কেন্দ্র সরকার |
| কাদের জন্য স্কিম | নাবালিকা |
| বয়স সীমা | সর্বোচ্চ ১০ বছর |
| কত টাকা মেলে | ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত |
| আবেদন পদ্ধতি | পোস্ট অফিস বা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে |
| সুদের হার | বছরে ৮.২% |
কী এই সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা? | Sukanya Samriddhi Yojana |
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা হল কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে চালু করা মহিলাদের জন্য বা বাড়ির মেয়েদের জন্য একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। আর এটি একটি ক্ষুদ্র সঞ্চয় স্কিম হিসেবে কাজ করে। মূলত “বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও” মিশনের আওতায় ভারত সরকার ২০১৫ সালে এই প্রকল্পটি চালু করেছিল। আর এটি কন্যা সন্তানের ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার জন্যই চালু করা, যেখানে অভিভাবক বা অভিভাবিকারা তাদের মেয়ের নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে এবং প্রতিমাসে সামান্য কিছু টাকা জমা দিতে হয়, যা মেয়াদ শেষে সুদসহ মোটা অংকে পরিণত হয় এবং একবারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকে।
আবেদন করার জন্য কী যোগ্যতা দরকার?
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা প্রকল্পে আবেদন করার জন্য অবশ্যই কন্যা সন্তানকে কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। সেগুলি হল—
- আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
- আবেদনকারী কন্যার বয়স ১০ বছরের নীচে থাকতে হবে।
- একাধিক কন্যা সন্তানের জন্য পৃথক পৃথক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকে। তবে হ্যাঁ, সর্বোচ্চ দুটি মেয়ের জন্যই অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। তার বেশি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না।
- একটি কন্যা সন্তানের জন্য একবারই শুধুমাত্র অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। একাধিকবার অ্যাকাউন্ট খোলার কোনও সুযোগ নেই।
আরও পড়ুনঃ ৭৫ টাকায় আনলিমিটেড কল, ডেটা! জলের দরে সেরা প্ল্যান নিয়ে এল Jio
কত টাকা জমা করতে হয় এই স্কিমে?
জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পে আপনি ন্যূনতম ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা করতে পারবেন। তবে হ্যাঁ, এখানে প্রতি বছরে টাকা জমা করতে হয়। আর এই টাকা আপনাকে টানা ১৫ বছর ধরে জমা করা যেতে হবে। এরপর আর টাকা জমা দেওয়ার কোনওরকম প্রয়োজন পড়বে না। এককালীন আপনি টাকা পেয়ে যাবেন। তবে অ্যাকাউন্টটি ২১ বছর পর্যন্ত চালু রাখতে হবে।
আর আপনি এখানে যত টাকা জমা দেবেন, ততদিন সেই হিসেবে সুদ যুক্ত হবে। ফলে পরবর্তীতে চক্রবৃদ্ধি সুদের হারে সেই স্বল্প টাকা মোটা অংকের ফান্ডে পরিণত হবে। এর ফলে মেয়াদ শেষে কন্যা সন্তানের অ্যাকাউন্টে একটি মোটা অংকের টাকা ঢুকবে, যা উচ্চশিক্ষা কিংবা বিবাহের জন্য কাজে লাগবে।
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় সুদের হার কেমন?
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে শেষ ত্রৈমাসিক অনুযায়ী, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা প্রকল্পে বার্ষিক ৮.২% হারে সুদ দেওয়া হয়ে থাকে। আর এই সুদ মূলত প্রতি তিন মাস অন্তর হিসেব করা হয় এবং এটি চক্রবৃদ্ধি হারে দেওয়া হয়। ফলে স্বল্প টাকা মোটা অংকের ফান্ডে পরিণত হয়।
এবার যদি আপনি প্রতি বছর ১.৫ লক্ষ টাকা করে ১৫ বছর ধরে জমা করতে পারেন, তাহলে ২১ বছর শেষে আপনার অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭২ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা। আর এটি সম্পূর্ণ আপনার মেয়ের নামে থাকবে এবং প্রয়োজনে আপনি সেই টাকা তুলতে পারবেন।
রয়েছে কর ছাড়ের সুবিধা
প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পটি EEE ক্যাটাগরি আওতায় পড়ে। অর্থাৎ, আপনি জমা করা টাকার উপর আয়কর আইন ৮০সি অনুযায়ী ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ কর ছাড় পাবেন। আসলের উপর কোনওরকম কর দিতে হবে না। ম্যাচিউরিটির সময় সম্পূর্ণ অর্থ আপনি করমুক্ত হিসেবে তুলে নিতে পারবেন। মোদ্দা কথা, যারা ট্যাক্স বাঁচাতে চান বা সরকারকে কোনওরকম কর দিতে চান না, তাদের জন্য এই স্কিমটি একেবারে সোনায় সোহাগা।
টাকা তোলার নিয়ম কী রয়েছে?
এই স্কিম থেকে আপনি খুব সহজেই টাকা তুলতে পারবেন। প্রথমত, আপনার কন্যা সন্তানের বয়স যখন ১৮ বছর হবে এবং সে যদি মাধ্যমিক পাস করে, সেক্ষেত্রে পড়াশোনার খরচের জন্য আপনি মোট টাকার ৫০% পর্যন্ত তুলে নিতে পারবেন। তবে হ্যাঁ, সম্পূর্ণ টাকা তোলা যাবে না। মেয়ের বয়স ২১ বছর যখন হবে, তখনই অথবা ১৮ বছর বয়সে যদি সে বিয়ে করে থাকে, তাহলে সব টাকা তুলতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, বিয়ের জন্য টাকা তোলার অনুমতি রয়েছে বিয়ের এক মাস কিংবা তিন মাস পর পর্যন্ত।
আরও পড়ুনঃ বাড়িতে বসেই চাকরি দিচ্ছে TCS, মাস গেলে মাইনে ৩৫,০০০ – TCS Recruitment 2025
কেন করবেন এই প্রকল্পে বিনিয়োগ?
দেখুন, কেন্দ্রীয় সরকারের চালু করা বিভিন্ন রকম প্রকল্প রয়েছে। তবে এই প্রকল্প বিনিয়োগ করার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সেগুলি হল—
- প্রথম কথা, এই প্রকল্পে কর ছাড় মেলে। অর্থাৎ, আপনার বিনিয়োগের উপর কোনওরকম কর দিতে হবে না।
- দ্বিতীয় কথা, এই প্রকল্প আপনার মেয়ের ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত করে তুলবে, সে উচ্চ শিক্ষা হোক, বা বিবাহের ক্ষেত্রে হোক।
- তৃতীয় কথা, এই প্রকল্প চক্রবৃদ্ধি সুদের হারে মোটা অংকের রিটার্ন দেয়।
- এছাড়া সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত সরকারি স্কিম হওয়ায় আপনার বিনিয়োগের টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। কোনওরকম চিন্তা করার দরকার নেই।
এক কথায়, আপনি মাসে যদি মাত্র ২৫০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন এবং ১৫ বছর ধরে বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে পারেন, তাহলে ২১ বছর পর আপনাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না।
কতদিনে টাকা ডবল হবে?
এবার এই প্রশ্ন সকলের মনে আসতে পারে যে, আমি তো বিনিয়োগ করছি, তাহলে টাকা দ্বিগুণ হবে কবে? বর্তমানে এই প্রকল্পে যেহেতু ৮.২% হারে চক্রবৃদ্ধি সুদ দেওয়া হচ্ছে, সেক্ষেত্রে আপনার টাকা প্রায় ৮.৮ বছরে ডবল হয়ে যাবে। যদি আপনি ১ লক্ষ টাকা জমা রাখেন, তাহলে ৮.৮ বছরে তা ২ লক্ষ টাকা হয়ে যাবে। আর পুরো ২১ বছরের শেষে আপনি ১০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি হাতে পাবেন, যদি নিয়মিত ১.৫ লক্ষ টাকা জমা রাখতে পারেন।
কীভাবে বিনিয়োগ করবেন এই স্কিমে?
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে নিকটবর্তী কোনও পোস্ট অফিস বা ব্যাঙ্কের শাখায় যেতে হবে। সেখানে গিয়ে আপনাকে আবেদন ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। ফর্ম পূরণ করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসেই জমা দিতে হবে। আর তারপরেই পাসবুক দিয়ে দেওয়া হবে।
তবে এখানে আবেদন করার জন্য যে ডকুমেন্টগুলি লাগবে, সেগুলি হল—
- কন্যা সন্তানের জন্ম সার্টিফিকেট,
- অভিভাবকের পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড কিংবা রেশন কার্ড,
- ঠিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে রেশন কার্ড কিংবা বিদ্যুতের বিল,
- সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি,
- সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা আবেদনপত্র,
- প্রথম জমা হিসেবে ন্যূনতম ২৫০ টাকা।
আরও পড়ুনঃ মাধ্যমিক পাস করলেই হবে, ২০ লক্ষ টাকা স্কলারশিপ দিচ্ছে SBI – State Bank Scholarship
আপনি যদি মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে থাকেন, তাহলে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা হতে পারে আপনার জন্য সেরা বিকল্প। কারণ, কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং আর্থিক নিরাপত্তার জন্য এটি সেরার সেরা প্রকল্প। তাই আজই নিকটবর্তী কোনও পোস্ট অফিস বা ব্যাঙ্কে চলে যান এবং এই স্কিমের জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে মেয়ের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করুন।