বাড়ি বই না পড়লেও পরীক্ষায় আসবে 100% নম্বর, মানুন এই ছোট্ট টিপস – How to Score Highest Marks in Exam
বং নিউজ, ওয়েবডেস্ক: পরীক্ষায় ভালো ফলাফল (Good Result In Exam) করার জন্য সবসময় বই পড়তে হয় না। এটি শুধুমাত্র অভিভাবকদের খুশি করার একটি উপায়, তা বলা চলে। এর জন্য কিছু টিপস জানলেই খুব অল্প সময়ে অনেক বেশি বিষয় পড়া সম্ভব। চলুন জেনে নিই, কীভাবে খুব অল্প সময় পড়েও পরীক্ষায় খুব ভালো নম্বর করা যায়।
সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ
আপনার পড়তে বসার পিছনে সবসময় একটা লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে এবং নিয়মিত একটি রুটিন অনুযায়ী পড়াশোনা করতে হবে। পড়ার প্রতি মনোযোগ দেওয়া খুবই জরুরি বিষয়। এর জন্য পড়া শুরু করার পূর্বে সেই বিষয়টা কেন পড়বেন, না পড়লে কী হবে, এই বিষয়গুলো জানা খুবই জরুরী। নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারলে অধ্যায়ন বিষয়টি সহজ হয় এবং মনে অ্যাসাইনমেন্টের পরিকল্পনা করবেন। এতে সময় অপচয় কম হবে এবং পড়াও দ্রুত এগোবে।
সক্রিয় অধ্যয়ন ও নিষ্ক্রিয় অধ্যয়ন (Good Result In Exam)
সক্রিয় অধ্যয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে, নোট লিখে সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর আয়ত্ত করে। আগের বছরের প্রশ্নপত্র দেখতে থাকুন এবং মক টেস্ট দিতে থাকুন। এতে আপনি আপনার ভুলগুলো বুঝতে পারবেন। নিষ্ক্রিয় অধ্যয়নে শুধু পড়া বা লেখার মাধ্যমে নোট মনে রাখলে চাপ বেড়ে যায়। ফলে পড়তে বসলে ঘুম আসে এবং মনোযোগ দেওয়া যায় না। এই জন্য সক্রিয় অধ্যয়ন বেশি উপযোগী। সক্রিয় অধ্যয়নের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তির দুর্বলতাও কমে।
কর্নেল নোট টেকিং সিস্টেম ব্যবহার
পড়ার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই নোট করে রাখতে হবে, যাতে পরীক্ষার আগে বিষয়গুলোকে সঙ্গে সঙ্গে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যায়। এতে ভালো মনে থাকবে। এবং এর ফলে পরীক্ষার ফলাফল ভালো হবে। তবে সেই নোট ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের টাইপ করে রাখলে সেটিকে ঠিক নোট বলা যাবে না। কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, ল্যাপটপে নোট টাইপ করার চেয়ে হাতে লিখে নোট করা অনেক বেশি উপযোগী।
নোট লেখার একটি কার্যকর পদ্ধতি হল কর্নেল নোট টেকিং সিস্টেম। অধ্যাপক ওয়াল্টার পাউট লেখার পদ্ধতিকে সংকেত, নোট ও সারাংশ, এই তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। এই তিনটি বিষয় বিস্তারিতভাবে জানানো হল–
সংকেত: প্রথমেই প্রয়োজনীয় বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশ্ন লিখে রাখতে হবে। যেমন: বিশ্ব উষ্ণায়ন সম্পর্কে লেখার সময় এটির কারণ ক্ষতি ও সমাধান লিখে রাখতে হবে।
নোট: নোট পড়ার মূল বিষয়বস্তু লিখতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা লেখার সাথে সাথে সংক্ষিপ্ত রূপও ব্যবহার করতে হবে।
সারাংশ: নোট লেখা শেষ হওয়ার পর পুরো লেখাটির গুরুত্বপূর্ণ মূল বিষয়টির শেষে আলাদা করে লিখে রাখতে হবে। এই পুরো পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এক্ষেত্রে সকল জরুরি অংশের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা থাকবে।
এই পদ্ধতি আপনার পড়ার কাজে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে, যা আপনাকে পড়ায় দ্রুত উন্নতিতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুনঃ ৮৯৫ টাকায় ডেটা, কলিং সহ ৩৬৬ দিনের প্ল্যান আনল Jio – Low Budget Recharge Plan Jio
কিছু কৌশল অনুসরণ
আপনার অধ্যয়নকে ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত করে নিন এবং কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে পড়ুন। যেমন ২৫-৩০ মিনিট পড়ার পর পাঁচ মিনিট করে বিরতি নিতে হবে। এই পদ্ধতি আপনার পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে। মূলত একটানা পড়লে সেই বিষয়ে একঘেয়েমি চলে আসে। তাই বিরতি নেওয়া খুবই প্রয়োজন।
পড়াশোনায় মনোযোগের জন্য শান্ত পরিবেশ, পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। এতে শরীর ও মন আরও সতেজ হয়ে উঠবে। অকারণে চিন্তা দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। প্রতিদিন রিভিশন করতে হবে, নতুন বিষয়গুলোর সাথে সাথে পুরনো বিষয়গুলিও আবার পড়ে নিতে হবে। রিভিশনের জন্য প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় রাখতে হবে।
পরীক্ষার সময় মাথায় রাখুন এই বিষয়
তবে যখন পরীক্ষা দিতে যাবেন, তখন বা তার আগে অবশ্যই কিছু বিষয়ে মাথায় রাখতে হবে। যেমন—
- পরীক্ষার আগে গোটা সিলেবাস অন্তত কমপক্ষে দুই থেকে তিনবার রিভিশন দিতে হবে।
- নিজেকে পরীক্ষার জন্য একাধিক বার মক টেস্ট দিতে হবে।
- পরীক্ষার হলে গিয়ে পুরো প্রশ্নপত্রটি আগে মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে এবং সময় ভাগ করে নিতে হবে।
- পরীক্ষা চলাকালীন অবশ্যই শান্ত থাকতে হবে। আর কোনও প্রশ্ন আটকে গেলে পরবর্তী প্রশ্নে চলে যেতে হবে। একটি প্রশ্ন নিয়ে বারবার ভাববেন না।
- উত্তর লেখার সময় অবশ্যই হাতের লেখা সুন্দর করতে হবে, আর স্পষ্ট রাখতে হবে, যাতে পরীক্ষক খুব সহজেই আপনার লেখা বুঝতে পারে।
অন্যান্য কিছু টিপস
এখন শুধুমাত্র পড়ে গেলে বা লিখে গেলেই হবে না। কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন—
- পড়াশোনা শুরু করার আগে অবশ্যই নিজের মধ্যে একটি ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এতে আপনার মনোযোগ বাড়বে।
- শুধুমাত্র মুখস্ত করবেন না, বরং বিষয়গুলিকে ভালোভাবে বুঝতে হবে আর সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে হবে। প্রয়োজনে মুখস্ত করে লিখে রাখুন।
- পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম এবং সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে। আর এটি পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুনঃ রেশনের সাথে ১০০০ টাকা দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কারা পাবেন? – 1000 Rupees With Ration
পড়ার সময় নির্ধারণ
সর্বোপরি, আপনি কতক্ষণ পড়লেন, সেটি বিষয় নয়। মনোযোগ সহকারে পড়াই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে হবে। মুখস্ত করার বদলে সবসময় বুঝে পড়ুন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হাইলাইট করে রাখুন। উপযুক্ত কৌশল অনুশীলন করে সারাদিন না পড়েও ভালো ফলাফল করা যেতে পারে।